বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আজ ধুলিসাতের পথে

"হে ভারত, এই পরানুবাদ, পরানুকরণ, পরামুখাপেক্ষা, এই দসসুলভ দুর্বলতা, এই ঘৃণিত জঘন্য নিষ্ঠুরতা-এইমাত্র সম্বলে তুমি উচ্চাধিকার লাভ করিবে?
এই লজ্জাকর কাপুরুষতাসহায়ে তুমি বীরভোগ্যা স্বাধীনতা লাভ করিবে?

হে ভারত, ভুলিও না—তোমার নারীজাতির আদর্শ সীতা, সাবিত্রী, দময়ন্তী; ভুলিও না—তোমার উপাস্য উমানাথ সর্বত্যাগী শঙ্কর; ভুলিও না-তোমার বিবাহ, তোমার ধন, তোমার জীবন ইন্দ্রিয়সুকের-নিজের ব্যক্তিগত সুখের জন্য নহে।

ভুলিও না—তুমি জন্ম হইতেই 'মায়ের' জন্য বলিপ্রদত্ত; ভুলিও না—নীচজাতি, মূর্খ, দরিদ্র, অজ্ঞ, মূচি, মেথর তোমার রক্ত, তোমার ভাই।

হে বীর, সাহস অবলম্বন কর; সদর্পে বল—আমি ভারতবাসী, ভারতবাসী আমার ভাই। বল—মূর্খ ভারতবাসী, দরিদ্র ভারতবাসী, ব্রাহ্মণ ভারতবাসী, চণ্ডাল ভারতবাসী আমার ভাই, ভারতবাসী আমার প্রাণ, ভারতের দেবদেবী আমার ঈশ্বর, ভারতের সমাজ আমার শিশুশয্যা, আমার যৌবনের উপবন, আমার বার্ধক্যের বারাণসী; বল ভাই—ভারতের মৃত্তিকা আমার স্বর্গ, ভারতের কল্যাণ আমার কল্যাণ।

আর বল দিন-রাত, 'হে গৌরীনাথ, হে জগদম্বে, আমায় মনুষ্যত্ব দাও; মা, আমার দুর্বলতা কাপুরুষতা দূর কর, আমায় মানুষ কর।"
                                                                                                                                                                স্বামী বিবেকানন্দ

 

আগামী ১২ই জানুয়ারি ২০১৬ শুধু ভারতেই না, প্রতি বছরের মত সারা বিশ্ব জুড়ে মহা সমারোহের সাথে উদযাপিত হবে স্বামী বিবেকানন্দের ১৫৩ তম জন্ম জয়ন্তী । 

যে বাংলায় স্বামীজি জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে আমরা নিজেদের ধন্য-গর্বিত মনে করি, অহংকার বোধ করি; সেই বাংলা এবার ১২ই জানুয়ারি মুখরিত থাকবে পাকিস্তানি গজল শিল্পী গুলাম আলির সুরে।
গুলাম আলির অনুষ্ঠানের কথা সরকারিভাবে ঘোষণা করেন রাজ্য সংখ্যালঘু বিত্ত ও উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান ও তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সুলতান আহমেদ।

গুলাম আলি হলেন গজল সম্রাট!

"গ্যায়রো সে অব শুনা করো নগমা বাহার কে"- আহা কি ভালোই না গান উনি কিন্তু মনীষীদের জন্ম / মৃত্যু বার্ষিকী উদযাপনের এমন পন্থা তো বাংলার সংস্কৃতি নয়।

না একদিন আগে, না একদিন পিছে; নির্দিষ্ট ওই দিনটিতেই গুলাম আলির গানের জলসা বাঙালির ঐতিহ্যে আঘাত করা। স্বামীজির জন্মতিথির মাহাত্ম্য কে লঘু করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র মাত্র।

সুলতান আহমেদ বিবিসি নিউজ কে বলেছেন গুলাম আলির অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা বিশ্ব-ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই।

বিশ্ব-ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুলাম আলি কি তবে বিশ্ব বরেণ্য স্বামী বিবেকানন্দের চেয়েও শ্রেষ্ঠ?

গত বছর মুম্বাইতে গুলাম আলির অনুষ্ঠান হিন্দু সংগঠন শিবসেনা সমর্থনদের প্রতিবাদে বাতিল করে দিতে হয়েছিল বলেই সংখ্যালঘু তোষণে সদাই ততপর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ১২ জানুয়ারিকে বেছে নিয়েছেন হিন্দু জাতির প্রতি প্রতিশোধ নিয়ে সংখ্যালঘুদের তুষ্ট করতে।

আমি মুখ্যমন্ত্রীর এমন পক্ষপাতিত্ব, কদর্য আচরণ, ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং বাংলার শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সকল রাজনীতি সচেতন মানুষকে আহ্বান করছি আসুন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই পক্ষপাতদুষ্ট যথেচ্ছাচারী ষড়যন্ত্রকারীর হাত থেকে আমরা আমাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করি।

 

 by Smt. Moumita Bose Chakraborty